কবি

মরমি কবি, ভাষা সৈনিক, গীতিকার সাবির আহমেদ চৌধুরী

নিউজ ফরএভার ২৪ কবি

মরমি কবি, ভাষা সৈনিক, গীতিকার সাবির আহমেদ চৌধুরী

কবি সাবির আহমেদ চৌধুরীর জীবন-বৃত্তান্ত

 

বিশ্বমানবতার যুগশ্রেষ্ট কবি ভাষাসৈনিক সাবির আহমেদ চৌধুরী। গীতিকাব্য, মানবতাবাদী  ও মরমি গানে তাঁর অবদান বিশ্ববিশ্রুত ও কিংবদন্তিতুল্য। মানবতার কবি সাবির আহমেদ সারা পৃথিবীর সর্ব ধর্মের সর্ব জাতির প্রতি উদার মানবতাবোধে উজ্জীবিত বিশ্বশান্তি ও কল্যাণ কামনায় আধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক একজন প্রগতিশীল ব্যাক্তিত্ব। কবি সাবিরের জীবনব্যাপী সংগ্রাম ও সাধনার মূল সুর বিশ্বশান্তি ও বিশ্বজনীন মানবিক মূল্যবোধ, মরমি সাধনা, ধর্মীয় দর্শন, মানব কল্যাণ এবং আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রগতিশীলতার এক অপূর্ব সম্মেলনে গড়ে উঠেছে কবির মানসচেতনা। তাঁর জীবনদর্শন হচ্ছে অহিংসতা, অসাম্প্রদায়িকতা, মানবকল্যাণ ও মানবতার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ। ধর্ম আর আধ্যাত্মিকতার মধ্যে থেকেই তাঁর মানবিকতার উদ্ভাবন। বিশ্বের জাতিভেদ, সীমানা ও ধর্মের পার্থক্যকে মুছে ফেলে সারা বিশ্বের সকল মানুষকে আপন করে নেয়ার সুদুরপ্রসারী, ঐতিহাসিক ও বিজ্ঞানসম্মত দর্শনই তাঁর জীবনাদর্শ। কবি সাবির মূলত সাম্যচেতনা, বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধ, ধর্মের মূল নির্যাস ও বিশ্ব মানবতার মনস্কতা নিয়ে উদার দৃষ্টিতে পৃথিবীর দিকে তাকান। তাঁর উপলদ্ধিতে মানবগোষ্টীর সবাই মিলে এক সুবিশাল মানব পরিবার। পরস্পর আত্মার-আত্মীয়, পৃথিবী নামক এক ঘরের অধিবাসী, যে ঘরের ছাউনি উদার উন্মুক্ত আকাশ। তাইতো তিনি রচনা করেন, বিশ্বশান্তি ও বিশ্বমানবতার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট, অবিনশ্বর, চিরন্তনী অমূল্য বাণী: 

 

“আকাশ আমার ঘরের ছাউনি

পৃথিবী আমার ঘর

সারা দুনিয়ার সকল মানুষ

কেউ নয় মোর পর।”

 

এ হচ্ছে সাবির মানসের বিশ্বজনীন চিন্তাধারা, সর্বমানব কল্যানমূখী অনুভুতি এবং জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মানবপ্রেম যেখানে   বিশ্বব্রহ্মান্ডের সর্বত্রই তার ঘর। এ রকম স্পষ্ট বিশ্বতত্ত্ববোধ আর কোন কবির রচনায় আছে বলে জানা নেই। 

 

বিশ্ব মানবতার চেতনাকে জাগ্রত করার কালজয়ী এ অমৃত বচনের  স্রষ্টা কবি সাবির আহমেদ চৌধুরী। তিনি ঐতিহ্যবাহী নরসিংদি জেলার বেলাব উপজেলার হাড়িসাংগান গ্রামে ১৯২৪ সালের ১৫ জুলাই, ১৩৩১ বঙ্গাব্দের ৩১আষাঢ় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম হানিফ মোহম্মদ এবং মাতার নাম আছিয়া খাতুন। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ট। জন্মের চারমাস পূর্বেই পিতাকে হারান। মায়ের ¯েœহ মমতায় অতিবাহিত হয় পিতৃহীন সাবিরের শৈশব ও কৈশোরের দিনগুলো। প্রতিকুল পরিবেশ, ঘাত প্রতিঘাত, আর দারিদ্রকে জয় করার মন মানসিকতা গড়ে ওঠে বাল্যকালেই। একজন আদর্শ ও মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি ছিলেন সকলের প্রিয় ও ¯েœহভাজন। ১৯৪৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৪৬ সালে ঢাকা আহসান উল্লাহ স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে সাব ওভারসিয়ার ডিগ্রী অর্জন করেন। দেশভাগের পর স্কুলটি কলেজে রূপান্তরিত হয় এবং উক্ত কলেজ থেকে তিনি ১৯৪৮ সালে ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স সম্পন্ন করেন। শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৪৮ সালে সরকারের সি এন্ড বিভাগে উপ সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে তিনি একবার চাকুরিচ্যুত হন।

১৯৫৪ সালে সরকারি চাকুরি ছেড়ে ‘সাবির আহমেদ চৌধুরী এন্ড কোঃ’ নামে একটি কনষ্ট্রাকশন  ইঞ্জিরিয়ারিং ফার্ম প্রতিষ্ঠা করে স্বাধীনভাবে ব্যবসা শুরু করেন। কর্মজীবনে তার তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয়ও ঐতিহাসিক স্থাপনা গড়ে ওঠে এবং দক্ষ ও সততার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করেন। 

রাজনীতির ত্রিকালদর্শী সাবির আহমদ ব্রিটিশ বিরোধী ও পাকিস্তান আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিসেবে ছাত্রজীবনেই রাজনীতির জগতে প্রবেশ করেন। ১৯৪৭-৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনের সুচনালগ্ন থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত এই আন্দোলনের সাথে ঘনিষ্টভাবে জড়িত ছিলেন। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও তিনি সরকার বিরোধী এ আন্দোলনে যুক্ত থেকে ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এ জন্য তাকে সরকারি চাকুরি হারাতে হয়েছে এবং বহুবার মানবিক যন্ত্রণায় দগ্ধ হতে হয়েছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর দেশের স্বায়ত্বশাসন ও অধিকার আন্দোলন ও তিনি অনন্য ভুমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে মৃত্যুভয়কে উপেক্ষা করে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের একজন অন্যতম সংগঠক ও পৃষ্টপোষক হিসেবে দুঃসাহসিক ভুমিকা পালন করেন। দেশ মাতৃকার টানে আন্দোলনে সংগ্রামে সম্পৃক্ত থেকেও ব্যস্ততম জীবনের ফাঁকে অবসরে, নিরবে নিভৃতে লেখালেখি ও সাহিত্যের এক অমূল্য ভান্ডার গড়ে তুলেন তিনি। কাব্যসাধনা তার জীবনাচরণের নিত্যসঙ্গী। 

ব্যক্তিজীবনে তিনি পরিবার, সমাজ ও আধুনিক রাষ্ট্রের একজন সচেতন নাগরিক। তিনি শুধু কবিই নন, একজন সমাজসেবক শিক্ষানুরাগী সাহিত্য সংস্কৃতির পৃষ্টপোষক হিসেবেও সুখ্যাত ও স্বনামধন্য। মরমি ও অধ্যাতিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি বৈরাগ্য ও সংসার সমাজ বিমুখ হননি বরং সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে বিশ্ব মানবতার কল্যান কামনায় নিবেদিতপ্রান কর্মী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। অসহায় ও মেহনতি মানুষের কল্যান কামনায় তিনি সদা জাগ্রত। ঢাকার মেহেরুন্নেছা স্কুল এন্ড কলেজসহ তিনি বিভিন্ন শিক্ষা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্টপোষক। গরিব, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা তার অন্যতম মহৎ কর্মের স্বাক্ষর বহন করছে। তিনি দৈনিক ইত্তেহাদ পত্রিকার মুখ্য পরিচালক ও জলসিড়ি সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

সাবির আহমেদ সেই ঐতিহাসিক, বিরল যুগান্তকারী ব্যক্তিত্ব যার জীবদ্দশায় রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তার জীবনাদর্শন কর্ম ও সাধনার ওপর ড. খন্দকার রিয়াজুল হক তার অভিসন্দর্ভ মুল্যয়ন করে ডি-লিট ডিগ্রী প্রদান করেছে। জীবিত কোন কবির কাব্য ও সাহিত্যকর্মের উপর অভিসন্দর্ভ রচনা করে ডি-লিট ডিগ্রী অর্জন এক বিরল ঘটনা। তিনি নিজে বই লিখেছেন ১৬ টি এবং এ পর্যন্ত তার কর্ম ও সাহিত্য সাধনার ওপর দেশ বিদেশের সাহিত্যিক ও গবেষকরা বই লিখেছেন ১৭ টি। ইংরেজি, ফরাসী, সুইডিস ও হিন্দী ভাষায় কবি সাবিরের বই অনুদিত হয়েছে। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তার বই পাঠ্য তালিকার অন্তর্ভূক্ত। দেশ বিদেশে তার সাহিত্য কর্ম নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। কবি সাবিরের রচিত গানের সংখ্যা দুই সহস্রাধিক। বর্তমানে সাবির সংগীত, অডিও, ভিডিও, সিডি, ভিসিডিতে দেশ বিদেশের স্বনামধন্য শিল্পীদের কন্ঠে পরিবেশিত হচ্ছে। সাবির সংগীত সিডি-ভিসিডি আকারে বের হয়েছে ৫০০ এর অধিক। দুই বাংলার প্রখ্যাত কবি সাহিত্যিক ও শিল্পীদের অংশ গ্রহনে কবির জীবন, কর্ম ও কাব্য সাধনার উপর আড়াই ঘন্টার একটি তথ্যচিত্র  নির্মিত হয়েছে। এসব youtube.com তে নিয়মিত প্রচারিত হচ্ছে। এদেশে এ পর্যন্ত সাবির আহমেদ সর্বোচ্চ ইসলামী গানের রচয়িতা হিসেবে স্বীকৃত। তিনি এ পর্যন্ত দেশ বিদেশে শতাধিক সম্মাননা পেয়েছেন এবং দেশ বিদেশ ভ্রমন ও পবিত্র হজ্জব্রত পালন করেছেন। নিজ ধর্মের রীতি নীতি তিনি যথার্থভাবে মেনে চলেন, আবার অন্যধর্মের প্রতি তার রয়েছে গভীর শ্রদ্ধাবোধ। শুধুু ইসলাম নয়, সকল ধর্মের সারমর্ম নিয়ে তিনি রচনা করে চলেছেন তার গবেষণা ধর্মী গ্রন্থ। এ বিষয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত ‘সর্বজনীন মানবধর্ম’ –The Universal Religion of man তার এক যুগান্তকারী সৃষ্টি। তাছাড়া কবির রচিত ‘এই কথা সেই সুর’ মরমী কাব্য সাধনা ও ‘পৃথিবী আমার ঘর’ গ্রন্থটি মানবপ্রেমের এক অমর সৃষ্টি। 

বিশ্বশান্তি ও কল্যাণ কামনায় তার লেখনী নিয়ত সোচ্চার। এখনও তিনি চিরসবুজ, প্রাণবন্ত এবং কর্মক্ষম। সত্য ও সুন্দরের পূজারী  কবি সাবির আজও লিখে যাচ্ছেন অবিশ্রান্ত গতিতে। 

আমাদের বিশ্বাস সাবির প্রেমের অসংখ্য শান্তিবাণী, গান ও কাব্যকতা বর্তমান যুদ্ধ-ক্লান্ত ও অশান্তবিশ্বে শান্তির অমিয় ধারা আনতে এবং বিশ্ব মানবতার উন্মেষ ঘটাতে সক্ষম। তাঁর মরমি আধ্যাত্বিক ও মানবতার গান, কবিতা যতই প্রচার হবে এবং বিশ্ব মানবতার কল্যাণে তাঁর আজীবন সাধনা ও কর্ম নিয়ে যতবেশী গবেষণা হবে ততই বর্তমান এই অশান্ত পৃথিবীতে শান্তির বারতা বয়ে আনবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। কারণ সাবির মানস  দর্শন বর্তমান বিশ্বশান্তির এক অপূর্ব পথ নির্দেশনা। তিনি বিশ্বশান্তির এক অনুকরণীয় আদর্শ ও উজ্জল দৃষ্টান্ত। বর্তমান বিশ্বে বিরাজমান দুঃসময় ও ক্রান্তি লগ্নে কবি সাবির আহমেদের শান্তি ও মানব প্রেমের অমিয় শান্তির বাণী হৃত মানবতা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে নি:সন্দেহে। জাগ্রত হোক বিশ্ববিবেকজয় হোক মানবতার।

 

 

 

 

Life Sketch of Poet Sabir Ahmed Chowdhury

Sabir Ahmed is the greatest poet of humanity, spirituality and universality of the present era. He is a philanthropist and a veteran hero of the Language Movement. His contribution as a maestro to spiritual songs, folk songs, lyrics, ballads etc. is well known to all people of both home and abroad.

Sabir Ahmed is a science-minded modern and progressive poet having a liberal outlook about people’s different faiths and religions all over the world. He, through his versatile poetic genius, has made an endeavor to set peace in this turmoil world. His major concern is for human’s welfare and human’s emancipation.

Poet Sabir Ahmed has struggled throughout his poetic life and nurtured a motto as to how to work for the benevolence, peace and welfare of the world people. He has utilized his poetic, religious, spiritual and philosophical vision to unify religion, modernity, philosophy and science as a wreath flower.

Sabir Ahmed’s vision of life is plain, which is free from violence, free from racial segregation, and is fully embedded on respect, forbearance and welfare for each other. His sense of humanity blooms in his mind out of his deep religious and spiritual faith. His idealism is that he will abrogate social and racial discrimination and set up a universal brotherhood among humans irrespective of creed and color crossing the limitation and borders of all countries. His idealism is also based on modern science and historical value.

Sabir Ahmed looks at the world to see equity, universality, forbearance and coexistence among people. To his feeling the whole population of the world is inhabitants of a single house where the sky is its roof and the members are closely related with each other by their souls. Therefore in order to set up peace, humanity and brotherhood in the world, Sabir Ahmed writes-

“The sky is the roof of my Apartment

The earth my home dear one.

Each man of the immense universe

Is nothing best my relation”

The theme of these verses is poetic vision and is the stream of his thought towards the world people. He thinks the whole world is a single house and the sky is the roof of this house and the members of the house are the world people, who are closely related with each other by their souls. This is a unique vision of universal brotherhood and equity by overcoming narrow and dogmatic feelings of religion and faith.

Sabir Ahmed is the poet of awakening humanity, equity and universality. He was born on 15July in 1924, AD, and on 31 Ashar in 1331 after Bangla calendar, at Hurisagan village under Belabo upazila in Narsingadi district. His father’s name is Hanif Mohmmad and mother’s name is Achhia Khatun. Sabir Ahmed is the youngest of three brothers and two sisters. He lost his father four months before his birth. His childhood passed under the care of his affectionate mother. Since boyhood he made his way through obstacles. He made up his mind to overcome oddity, obstacles and poverty through firm determination and struggle. He was an ideal and meritorious student. He was dear and affectionate to his teachers and other students. He passed the Matriculate examination under the University of Calcutta in 1945 and got himself admitted into the Dhaka Ahsanullah School of engineering in 1946. He obtained sub-overseer degree from this school. After division of the country, the school was turned into the college and he completed Diploma in Civil Engineering course from this college in 1948. He started career as a sub assistant engineer in C&B department in 1948. He was once sacked from the job because he participated in the historic language movement.

In 1954 Sabir Ahmed gave up the govt. job and established a construction farm named ‘Sabir Ahmed Chowdhury & Co’ and started business independently. He constructed many national and historic foundations and establishments under his personal supervision with honesty and integrity.

Sabir Ahmed who has witnessed the three ages of politics of the subcontinent entered the politics in his student life. He was a strong activist of anti-British movement and Pakistan movement. He was closely associated with the Language Movement since the beginning from 1947-48 till 1952. He was a govt. employee; nevertheless he joined in anti-govt movement and set up an instance that every human must be vocal against any misrule and injustice. He had to lose the job and was subject to torture and agony. He also played a pivotal role in the Autonomy Movement of the country after 1952. He extended all out supports on his part to the freedom fighters during the Liberation War in 1971 and displayed his outstanding courage in the country’s freedom fighting. Notwithstanding his involvement in different movements of the country, he made time to exercise his poetic and literary faculty for the emancipation of mankind. Through his continuous writing he built up a store-house of inestimable literary works. Writing is still his life companion.

Sabir Ahmed is a conscious member of a family and society and at the same time he is a conscious citizen of the state. He is fully aware of his own duty and responsibility to the country and countrymen. He is a poet and a social reformer. He has also earned reputations patronizing in the field of education and culture of the country. Sabir Ahmed is an ardent entrepreneur and over enthusiast for folk songs and spiritual thoughts. But he has not become an outcast nor has he alienated himself from society and his family. He is keeping pace with modern world and working humanitarian services for all and sundry. He is all vigilant in the services of helpless and working people. He is the founder and chief patron of many educational and social organizations including Meherunnisa school & college in Dhaka.

His sympathy towards the poor meritorious students is revealed through his granting stipend and award to them. He was the vital director of the daily ‘Ittehad’ and editor of the literary newspaper ‘The Jalshiri’.

Sabir Ahmed is a personality who has set up instance in the history that during his life time research has been made on his life and the researcher Dr Khandker Riazul Haque has been awarded with the D. Lit degree from the Viswa Bharati. It is a rare example.

Sabir Ahmed has written sixteen books, but on his life and literary works critics and researchers have written seventeen books. Poet Sabir’s books have been translated into English, Persian, Swedish and Hindi language. Some books written by Sabir Ahmed have been selected as texts and are taught at the universities of Bangladesh and in other countries. Critics and experts of home and abroad are researching on his literary works.

The number of songs composed by Sabir Ahmed is more than two thousand and his songs are being rendered by many famous songsters of home and abroad through audio, video, CD and VCD. The number of CD-VCD containing Sabir’s songs is more than five hundred. A documentary show of two hours and a half, focusing the poet’s life and participated by the famous poets and literati of both the Bangla has been made. These are being presented through U-Tube frequently as the Sabir Geeti. He is thought to be the sole composer of the highest number of Islamic song in this country. Hitherto he has been awarded with more than one hundred distinguished awards in home and abroad. He travelled many countries and performed pilgrimage or Hajj. He practices Islam, his own religion and at the same time he has written books researching his own religion Islam and also other religions. In this regard the recently published book named ‘The Universal Religion of Man’ is his epoch making literary works. Besides this, he composed ‘Voice of mine, Tune of Thine’ and ‘The world is My House’ are two remarkable books of love for human.

Sabir’s writings always speak for establishing peace on the earth. He is still evergreen, lively and active person. His writings also speak in favor of truth, fair and justice and at the same time oppose all unfair, falsehood and injustice. We believe that Sabir’s poems and songs which are full of love, spirituality, equity and harmony are necessary to set peace in this war ravaged turmoil world.

We also cherish a hope from the core of our hearts that Sabir’s poetic and spiritual vision, philosophy and liberal idealism will promote in the establishment of universal brotherhood, respect and forbearance among the nations irrespective of creed and color. His literary vision will bring the world people under the cool shade of humanity and justice, free from exploitation and deprivation. His vision will unify the whole people of the world under the banner of sympathy, forbearance and coexistence with a sense of universal brotherhood. Let Sabir survive in the hearts of people of all ages, faiths and thoughts. Let Sabir’s spiritual vision and idealism prevails all over the world and set up eternal peace among mankind.


ফটোগ্যালারী