সাক্ষাৎকার

রবীন্দ্র নজরুল দুই কবিকে নিয়ে বিদ্বেষ বিভাজন সমগ্র বাঙালী জাতিকে বিভক্ত করে রেখেছে

নিউজ ফরএভার সাক্ষাৎকার

রবীন্দ্র নজরুল দুই কবিকে নিয়ে বিদ্বেষ বিভাজন সমগ্র বাঙালী জাতিকে বিভক্ত করে রেখেছে

বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী বাঙালী শুধু একটিমাত্র কারণে আজও একত্রিত হয়ে নিজেদের মাঝে ভালোবাসা'র হস্ত প্রসারিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। আন্তরিকতা সৃষ্টিতে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। নিজেদের মাঝে বিশ্বাস তৈরী করতে পারেনি। সেই কারণটি হচ্ছে কবি রবীন্দ্রনাথ ও কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে অহেতুক ও অযথা বাড়াবাড়ি। ১৯২২ সালে “বিদ্রোহী” কবিতা প্রকাশিত হলে একটি উগ্র মৌলবাদী অন্ধ রবীন্দ্র-ভক্ত তাদের প্রিয় কবি রবীন্দ্রনাথের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে সাম্প্রদায়িক মন-মানসিকতা’র ভিত্তিতে এই বিভাজন, বিদ্বেষ তৈরী করে। উল্লেখ করতে হয় যে ঐ সময় মুসলমান বাঙালী ৫% শিক্ষিত ছিলো না। যার কারণে এই বিভাজন ও বিদ্বেষ ঘুর্নাক্ষরেও বোঝার মত জ্ঞান-বুদ্ধি তাদের মোটে ও জাগ্রত হয়নি। রবীন্দ্র অন্ধ ভক্তদের মতে রবীন্দ্রনাথ এর চেয়ে বড় কবি নেই। হতে পারবে না বা হতে দেয়া হবে না। যদিও সবেমাত্র কাজী নজরুল ইসলাম তখন “অগ্নিবীণা” কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। এতেই এই খারাপ অবস্থা শুরু হয়ে গিয়েছিল। এরপর নজরুল বিশাল সাহিত্য সম্ভার সৃষ্টি করে ভারত তথা জগত খ্যাত হয়েছেন। তখন থেকেই নজরুল সৃষ্টিকর্ম স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ্যক্রমে প্রবেশ অঘোষিত নিষিদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। যা ১৯৪৭ সালের পর ক্যান্সার আকারে পশ্চিমবঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছিল। মুসলিম বাঙালী জাতি আস্তে আস্তে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ষড়যন্ত্র বুঝতে পেরে ভীষণ ক্ষুদ্ব হয়ে উঠতে থাকে। যা আজ চূড়ান্ত রূপ লাভ করেছে। যদিও বর্তমান কালে শিক্ষিত হিন্দু-মুসলমান সমাজ বিষয়টি গভীরভাবে বুঝতে পেরে অনেকাংশে নিরপেক্ষ হওয়ার চেষ্টা করে চলেছে। তবে এরা প্রকৃত অর্থে সাধারণ আমজনতা, বুদ্বিজীবি, আমলা, রাজনীতিবিদ ও ধর্মান্ধ গোষ্ঠী। কিন্তু তাদের বিভাজন কাজে অটল রয়েছে। তারা নজরুল ইসলামকে কিছুতেই বড় কবি হিসাবে মানতে রাজি নয়। এই কারণে মুসলিম ও হিন্দু বাঙালী জাতির মধ্যে অস্থিরতা ক্রমশঃ বাড়ছে। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বাঙালী এক হতে সুযোগ পাচ্ছে না। দূরত্ব বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব শক্তিশালী হতেই পারছে না। অথচ রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল ইসলামকে বাংলা সাহিত্যের দুই দিকপাল মুখে মুখেই বলা হয়। কাজে তা দেখতে পাওয়া যায়না। এভাবেই ৯৫ বছর পার হতে চললো। শতবছর হতে আর মাত্র তিন বছর বাকী। কিন্তু বিভেদ যেন রয়েই গেলো। এখনো সময় আছে বিভাজন, বিদ্বেষ, হিংসা দ্বেষ পরিহার করা। ভেবে চিন্তে দু'দেশের সরকারী পর্যায়ে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। অন্যথায় মুসলিম বাঙালী'রা কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে বড় কবি বলতে দ্বিধা করবে না। রবীন্দ্রনাথকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতেও দ্বিধা করবে না। তারা রবীন্দ্রনাথকে আর মানতে চাইবে না। শ্রদ্ধা করবে না ও মুসলমান বাঙালীর কবি বলে স্বীকার করবে না। গন্ডগোল কিন্তু ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। তাই এখানেই গন্ডগোল শেষ করতে হবে। নচেত আর ঠেকানো সম্ভব হবে না। তাহলে বুঝতে বাকী নেই যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল ইসলামকে ছোট বড় করা, হিংসা-বিদ্বেষ সৃষ্টি করা ও নজরুলকে সর্বস্তরে অবহেলা, অমর্যাদা করা আর কোনদিন মুসলিম বাঙালী মেনে নেবে না। এই রবীন্দ্র-নজরুল ইস্যু সমাপ্ত না হলে, দুই বাঙলার মধুর সম্পর্ক হবে না, ভারত বাংলাদেশ সুসম্পর্কও তৈরী হবে না।

 


ফটোগ্যালারী